ভারতের মহারাষ্ট্রের ভবন ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। বুধবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় গভীর রাতে ভেঙে পড়ে ‘রামাবাই অ্যাপার্টমেন্ট’ নামের চারতলা ভবনটি। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সেখানে অব্যাহত রয়েছে উদ্ধারকাজ। কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে একসঙ্গে কাজ করছে ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবনটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটির অন্তত ১২টি ফ্ল্যাট ধসে পড়েছে বুধবার (২৭ আগস্ট)। দুর্ঘটনার সময় ভবনের চতুর্থ তলায় এক বছরের এক কন্যাশিশুর জন্মদিন উপলক্ষে পার্টি চলছিল। অতিথি ও বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ সেখানেই চাপা পড়ে। নিহতদের মধ্যে ওই শিশুটিও রয়েছে বলে জানা গেছে।
পালঘরের জেলা কালেক্টর ইন্দু রানি জাখার বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে নিশ্চিত করেছেন, এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত অন্তত ছয়জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করায় ভবন নির্মাতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধসের পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, ‘ভাগ্যক্রমে যে চাল ঘরের ওপর ভবনটি ধরে পড়ে সেটি ফাঁকা ছিল। নাহলে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত।’
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নতুন করে শনাক্ত করা হয়েছে আরও আটজন নিহতকে। তাঁরা হলেন—গোবিন্দ সিং রাওয়াত (২৮), শুভাঙ্গী পাওয়ান সাহেনি (৪০), কাশিশ পাওয়ান সাহেনি (৩৫), দীপক সিং বেহরা (২৫), সোনালি রূপেশ তেজাম (৪১), হরিশ সিং বিষ্ট (৩৪), সাচিন নেভালকর (৪০) এবং দীপেশ সোনি (৪১)।
জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ভবন নির্মাণে অনিয়মই দুর্ঘটনার মূল কারণ। ধসের পর এলাকায় হাহাকার শুরু হয়। স্বজনেরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। নিহতদের পরিবারের দাবি, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই বিপর্যয় এড়ানো যেত।
পালঘর প্রশাসন ইতিমধ্যে আশপাশের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ চালঘরগুলো খালি করে দিয়েছে। সেখানে বসবাসকারীদের অস্থায়ীভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
আপনার মতামত লিখুন :