গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, নুরের ওপর এ পর্যন্ত অন্তত ২২ বার আক্রমণ হয়েছে। রিজভীর অভিযোগ, নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর নুরের ওপর এই বীভৎস ও পৈশাচিক আক্রমণ কেন হলো? আমার মনে হচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত। তাকে টার্গেট করা হয়েছে মেরে ফেলার জন্য। সামান্য এদিক-ওদিক হলে আজ তাকে জীবিত পাওয়া যেত না।
তিনি বলেন, নুরের ওপর অন্তত ২২ বার আক্রমণ হয়েছে। বগুড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় যেখানে গেছে, সেখানেই সে ফ্যাসিবাদী সরকারের শিকার হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল তাকে সরাসরি হত্যা করা।
রিজভী আরও বলেন, নুরের ওপর হামলা ছিল একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ। সে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। সেখানে কোনো সহিংসতা ঘটেনি। এরপরও নির্মম আক্রমণ চালানো হয়েছে। নুর কখনো সহিংসতায় জড়িত নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের জন্য তার স্বীকৃতি আছে।
নুরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে রিজভী জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মতে তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। আরও কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাকে কেবিনে নেওয়া যাবে কি না।
এদিকে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, নুরের অবস্থা নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে না গেলে তার শারীরিক অবস্থা কোন দিকে যাবে, তা বলা যাবে না।
তিনি আরও জানান, আঘাতের কারণে নুরের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে এবং নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
রিজভী অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের অফিসে ঢুকে এভাবে রক্তাক্ত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাঁচ আগস্টের পরাজিত শক্তিরাই নানা কায়দায় তাদের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় পার্টিকে ঘিরে রিজভী বলেন, তারা আজ রাজনীতি নিয়ে কথা বলছে, এটা অবাক করার মতো। শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচনের জন্য জিএম কাদের ভারতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বলেছিলেন, ভারতের অনুমতি ছাড়া কিছু বলা যাবে না। যে ব্যক্তি নিজের দেশের ওপরই বিশ্বাস করে না, সে আবার রাজনীতি করছে। জনগণের সন্দেহ হচ্ছে তারা নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উস্কানি দিচ্ছে।
জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দলীয় সিদ্ধান্ত। তবে আমার ধারণা, ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল হতে দেবে না। পাচার হওয়া অর্থের বড় অংশ শেখ হাসিনার হাতে পৌঁছে গেছে। আড়াই হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, আরও দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
হামলার ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, নুরের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :